বড়ই মুশকিলে পড়েছেন সমীর বাবু ,রক্তে চিনি বেড়েছে ,তাই মিষ্টি খাওয়া বারণ ,গিন্নী সারাদিন গোয়েন্দার মতো নজরে রেখেছেন তাঁকে ,একটুও ফাঁকতালে কিছু মুখে চালান করা যাচ্ছে না .....
মাত্তোর তো পঞ্চাশটি গ্রীষ্ম ,বর্ষা ,বসন্ত পার করেছেন তিনি ,এরই মধ্যে কোথা থেকে এই বিতিকিচ্ছিরি অসুখ ধরলো তাঁকে কে জানে ,সাদামাটা জীবন কাটান তিনি ,না আছে বিড়ি সিগারেটের নেশা ,না অন্য কিছুর ,খালি একটু খেতে ভালোবাসেন তিনি ,সকালবেলা চার পাঁচটি জিলিপি আর দুশো গ্রাম মাখা সন্দেশ দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারতেন ,আহা ,মাখা সন্দেশ মুখের মধ্যে দিলে কেমন একটা শিরশিরে স্বর্গীয় অনুভূতি হতো ,আবার কবে গিন্নী পারমিশন দেবেন কেউ জানে না ,আর ওই শয়তান ডাক্তারটা যতো নষ্টের গোড়া ,বলে কিনা "এখন বছর খানেক তেতো খেয়ে কাটান ,আসছে বছর দেখা যাবে "......
এক বছর !!!!তার মানে বারটা মাস !!!!!তিনশো পঁয়ষট্টি দিন !!!!!ওরে বাবারে ,চোখে অন্ধকার দেখেন তিনি ,গরমকাল আসছে যে ,বাগানের আম আর লিচু গুলো কে খাবে ?বেছে বেছে লাগানো বোম্বাই ,হিমসাগর এইয়া বড় লিচু ,দুধের মধ্যে আম কলা না দিলে মানুষে খায় ?ফজলি আমও চলবে বর্ষাকাল পর্যন্ত ,তার পরেই আসবে তাল ,তালের বড়া ,তালক্ষীর মনে করে শুকনো ঢোঁক গেলেন সমীর বাবু ,একটু ও কি হাতে করে গিন্নী দেবেন না ?এতই কি কঠিন প্রাণ তাঁর ?এতদিন ধরে যে বলে এসেছেন "ওগো ,তুমিই আমার সব "সেই ভালো ভালো কথা কোথায় গেলো !সারাক্ষণ প্যাট প্যাট করে তাকিয়ে দেখছেন সমীর বাবু বেচাল কিছু করছেন কিনা .......
হ্যাঁ ,যে কথা হচ্ছিলো ,তালের পরেই হই হই করে পুজো চলে আসবে ,নারকেলের নাড়ু ,কুচো গজা ,ক্ষীরের বরফি ,কতো রকমারি খাবার l "লক্ষী পুজোয় কদমা ,বাতাসা ,চিঁড়ে মুড়ির মোয়া ,মুড়কি ,কতো কী l এই সব খাওয়া যায় বলেই তো তাঁর বিভিন্ন বাড়ীর পুজোয় যেতে ইচ্ছে করে ,সবাই কতো আগ্রহ নিয়ে তাঁকে নেমন্তন্ন করে ,কিন্ত এইবার কী হবে কে জানে ..............
কালী পুজোর পরে ভাই ফোঁটা ,হুঁ হুঁ বাবা ওইখানে আর গিন্নীর ক্যারদানি চলবে না ,যা বাঘা বাঘা তিনটি ননদ আছে ,গিন্নী তাঁদের ভয়ে নিজেই তখন জুজু ,আহা ,সেই দিনটার কথা মনে করে এখন থেকেই জিভে জল আসে তাঁর ,আশ মিটিয়ে মিষ্টি খাবেন সেদিন ,না মানে নইলে দিদিরা কষ্ট পাবেন না ?
আসছে ,ওই আসছে ,আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তার ডাক শোনা যায় "জয় ..ন ..গ ..রের ..মোয়া ..........আ " আহ্ কী অপূর্ব তুলতুলে ক্ষীরের গুঁড়ো ছড়ানো ,ঘিয়ের গন্ধ মাখা ,একবারে দশ কুড়িটা মেরে দিতে পারেন তিনি ,ওর কমে থামা যায় ও না ,আর নলেন গুড়ের জলভরা তালশাঁষ,অমৃত কুম্ভ ,মাসকাবারি ব্যবস্থা করা ছিলো মিষ্টির দোকানে ,আর কি সেই খাতা ব্যবহার করা হবে ?ছেলে দুটো ও হয়েছে কুলাঙ্গার ,এসব দেখলে নাকি তাদের গায়ে জ্বর আসে ,তা খা বাবারা ,পিজ্জা খা ,হাউমাউ করে চাউ খা ,এসবের মর্ম তোরা কি বুঝবি !
আরে !বড়দিন এসে পড়লো যে ,কেক ,পেস্ট্রি ,মাফিন ,ম ম করবে সুগন্ধে ,কল্পনার রাশ ছেড়ে দিয়ে এই গরমে সুখ স্বপ্নে মগ্ন ছিলেম সমীর বাবু ,অন্য জগতের স্বাদ গন্ধে বিভোর হয়ে ,ঘোর ভাঙলো একটা কর্কশ ঠকাস শব্দে "হাঁ করে তাকিয়ে কী দেখছো ?এই নাও করলার রস ,খেয়ে আমায় উদ্ধার করো ,গ্যাসে পায়েস বসিয়ে এসেছি ,আজ ছোট খোকার জন্মদিন না ?একটা কথা ও তো মনে রাখতে পারোনা ?"
এট্টু নিশ্চয়ই ভাগ পাবেন আজ ,আশায় বুক বেঁধে পুরো রসটা গিলে নেন তিনি L
No comments:
Post a Comment