Thursday, 15 June 2017

"বৃষ্টিভেজা সন্ধেবেলা "


     গতকাল সন্ধেবেলা অফিস থেকে     ফিরছি ,ঝমঝমিয়ে বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি দেখা দিলেন ,সারা শরীর মন উন্মুখ ,কিন্ত ভেজার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই ,ফোন,আই কার্ড  ,দরকারী কাগজপত্রে ব্যাগটি বোঝাই , মনে মনে হাত কামড়াতে কামড়াতে একদল অনিচ্ছুক বৃষ্টি ভেজার ভয়ে কাতর মানুষজনকে ঠেলেঠুলে একটা দোকানের শেডের তলায় ঢুকে পড়লাম ,আর তখনই চোখে পড়লো সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি ..........

       সবার কাছে এই বৃষ্টি আনন্দ নিয়ে আসে নি , কয়েকটি উদ্বাস্তু পরিবার ভেজা গায়ে উদভ্রান্তের মতো দৌড়াদৌড়ি করছে ,ছেলেমেয়েদের নিয়ে ,নিশ্চয়ই ভাঙাচোরা বাড়ীতে জল ঢুকে গেছে ,তাই একটু আশ্রয়ের খোঁজে এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়াচ্ছে l

         এইরকম  বিপদের দিনেই মানুষ চেনা যায় ,তাদের দিকে তাকালেই সবার মুখচোখ পাল্টে যাচ্ছে ,বিশেষ করে মহিলারা ,কেউ কেউ ওই বৃষ্টির মধ্যেই তড়বড় করে বেরিয়ে গেলেন ,যেন উদ্বাস্তুদের ছোঁয়ায় তাঁদের কতো ক্ষতি হয়ে যাবে ,সত্যি ,এঁরাই আবার স্কুলের খাতায় পরোপকার নিয়ে বড় বড় রচনা লিখে এসেছেন ,লজ্জা হলো দেখে ,আমি সাহায্য করতে পারতাম ,কিন্ত ওই ব্যাগ ভর্তি কাগজ টাগোজ ভিজে গেলে কী হবে এই ভেবেই আর ............

         ইয়ে ,মানে ওই আর কী ,উদ্বাস্তু বলতে আরশোলা পরিবারের কথা বলছিলাম 😆😆😆😆😆😆

Thursday, 8 June 2017

"ভাই ফোঁটা "


        নিজের কোনও ভাই ছিলোনা ,ছোটবেলায় লটবহর নিয়ে ,আমাদের দুই বোনকে ট্যাঁকে পুরে মা ,বাবা চলে যেতেন মাসির বাড়ি ,রীতিমতো নরক গুলজার ,মামা            মাসি ,দাদারা ,দিদিরা সব্বাই মিলে l সামাল দিতে কালঘাম বড়দের ,কে কার পিছনে লাগছে ,ছোট পেয়ে মুরগী করছে কারা ,"ও মা ,দেখো না আ আ আ" অনুনাসিক কণ্ঠে তারস্বরে নালিশ ,আবার ভাই ফোঁটার জোগাড় যন্ত্র ,কত দিকে দেখা যায় ,ফলস্বরূপ পাইকারি হারে বকুনি অথবা ছোটখাটো চড়থাপ্পড় জুটে যেতো মাঝে মাঝে ,উপরি পাওনা l
              এরকমই এক দুপুরে ,ছোটদের ফোঁটা দেওয়া চলছে ,তদারকিতে মা ,মাসির দল ,একটু তাড়াহুড়ো ও ছিলো ,দেরী হয়ে গেলে শুভ যোগ হাতছাড়া হওয়ার প্রবল আশঙ্কা ___
____কিরে ,শুরু কর এবার ,মন্ত্র জানিস না ?আচ্ছা আমি কানে কানে বলে দিচ্ছি
____না না ,আমি জানি
____হ্যাঁ ,বাঁ হাতের কড়ে আঙুলে চন্দন নিয়ে দাদার কপালে ফোঁটা দিয়ে মনে মনে বল .....
         সার বেঁধে বসে আছে দাদারা ,এক এক করে ফোঁটা দিয়ে যাচ্ছি ,প্রণাম ,আশীর্বাদের পরের অংশটাই বেশী উৎ্সাহব্যঞ্জক ,কী কী আমদানি হলো l একদম শেষে বসে আছে সে ,চোখে দুষ্টু হাসির ঝলক ,তার কাছে গিয়ে ফোঁটা দিলাম ,এক খাবলা ধান দূর্বা মাথায় চাপিয়ে দিয়ে বলল "কী রে ,হাঁ করে তাকিয়ে আছিস কেন ?প্রণাম করবি না ?"তুতলে  গিয়ে বললাম "তোকে কেন প্রণাম করবো !তুই কি বড় ?"  "শিগগিরি  প্রণাম কর বলছি ,নইলে তোরই পাপ হবে ,আমার কী ?"
        নিচু হয়ে প্রণাম করতেই ঘরে হাসির রোল ,"কী বোকা রে তুই চুমকি !ওকে প্রণাম করলি কেন ?তোর থেকে মাত্র উনিশ দিনের বড় !"কান্না চাপতে গিয়ে চোখমুখ লাল ,কী অপমান সবার সামনে !কোনোরকমে  উঠে দে দৌড় ,সোজা বাবার কাছে ,নালিশ শুনে হাসি চেপে বললেন "অন্যায় তো কিছু করনি তুমি ,লজ্জার কী আছে ?ভাইবোনের মধ্যে একটু মজা হয়ই "কিছুক্ষণ পরে সামনে পেয়েই গুম গুম কিল বসিয়ে দিয়েছি ওর পিঠে .........
         বিয়ের পরে আর সেভাবে ফোঁটা দিতে না পারলেও ফোন করতাম রাখী তে ,ভাই ফোঁটার দিনে ,আড্ডা ,মজা ,গল্পগুজব ,সবই চলতো ,কিন্ত কাল ইচ্ছে করলেও তার সাথে আর কথা বলতে পারবো না ,কয়েকমাস আগে সব কিছুর ঊর্ধে চলে গেছে আমার থেকে মাত্র উনিশ দিনের বড় দাদা ,বাবিয়া ........
         যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস ,অপেক্ষায় থাকিস ,দেখা তো হবেই ,ওখানেই নরক গুলজার করে তুলবো আমরা আবার ,ও হ্যাঁ ,এবার কিন্ত আর ফোঁটার পরে ...........

"চিঠি "

প্রিয় নীলা ,
                                 কেমন আছিস ?মনে পড়ে ?এক সময়ে অনেক চিঠি লিখেছি তোকে ,সেই সব চিঠি হয়তো এখনও সযত্নে রাখা আছে কারো কাছে ,হয়তো বা স্মৃতির ধূলোয় মিশে গেছে অক্ষরগুলো l
        আমার সব কথা জানতিস তুই , তোকে না লিখলে আমি স্বস্তি পেতাম না l আমার আস্তে আস্তে বড় হওয়া ,আকাশ ,বাতাস রঙিন হয়ে আসা ,সুরের রামধনুতে আদর মাখা চান ,সবই তোর জানা l
           মনে আছে সেই ঘটনার কথা ?আরে ওই যে ,যেদিন তুচ্ছ একটা মনগড়া কারণে দেবী আমাকে  যাচ্ছেতাই অপমান করলো ?কতোবার ওকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে  সৌম্যদা সেদিন আমার সাথে রাস্তায় কথা বলছিল হঠাত্ দেখা হয়ে গিয়েছিলো বলেই ,ও উল্টোপাল্টা ভেবে নিয়ে আমার সঙ্গে বন্ধুত্বে ইতি টানলো l চোখের জলে বালিশ ভিজে গেলো আমার ,  আর শুধু তুই জানলি ,তুই বুঝলি আমার কষ্টটা l
          যেদিন বাবার মারাত্মক অসুখটা ধরা পড়লো ,কতো কাগজ নষ্ট করেছি তোকে লিখতে গিয়ে ,বারবার ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো সামনেটা ,অদ্ভুত এক অন্ধকার যেন ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছিলো আমার সমস্ত চেতনা ,আমার আত্মবিশ্বাস l তোকে সব জানিয়ে যেন একটু শ্বাস নিতে পারলাম l
          আরো ছোটবেলায় কীভাবে বিরক্ত করেছি তোকে বল ,কোথাও  বেড়াতে গেলে সবটুকু তোকে না জানালে আমার তৃপ্তি হতো না l আমার সাথে সাথে তুইও ঘুরে এসেছিস কন্যাকুমারীর তেরঙা বেলাভূমি , মুগ্ধ চোখে দেখেছিস সূর্য্য ওঠার সময়ে কেমন সেজে ওঠে পাহাড়চূড়া ,মনে আছে আমরা কতো ছবি আঁকতাম কল্পনার তুলি বুলিয়ে ?বড় হয়ে একবার যাবোই অরোরা বোরিয়ালিস দেখতে ,ঘোড়ায় চেপে টগবগিয়ে দাপিয়ে বেড়াব সাহারা মরুভূমি , ডুবুরির পোশাক পরে সমুদ্রের তলায় গিয়ে ভাব জমাবো অচেনা প্রাণীদের সঙ্গে .........? সত্যি ,কী ছেলেমানুষটাই না ছিলাম l
                           তোর সাথে কোনোদিন দেখা হয়নি  আমার ,হ্যাঁ ,তবুও কিন্ত আমার সবকথা শুধু তোকেই শেয়ার করেছি কতোদিন ,প্রথম যেদিন ক্লাসে চিঠি লেখা শেখানো শুরু হলো ,দিদিমণি বললেন সম্বোধনে কোনো বন্ধুর নাম দিতে ,হঠাত্ এই নামটাই আমার মাথায় এলো ,জানিনা কেন l তারপর থেকে কাল্পনিক চিঠি যতো লিখেছি ,সব তোকেই l পরীক্ষার খাতায় ,ক্লাসের খাতায় ,সব চিঠি তোকে লেখা l কেউ প্রশ্ন করলে বলতাম ও আমার খুব ছোটোবেলার একটা ব্ন্ধু l তারপর কখন যেন সত্যিই তোর অস্তিত্বে বিশ্বাস জন্মাল,শুধু স্কুলের চিঠিতে সব কথা লেখা যেতনা বলে ডায়রিতে লেখা শুরু হলো ,আর তুইও হয়ে উঠলি আরো কাছের l
         অনেকদিন কিছু লিখিনা তোকে ,কারণ তুই তো আমার প্রশ্বাসে জড়িয়ে থাকিস ,আমার সুখ দুঃখ ,আলো আঁধারের সঙ্গী হয়ে l আজ এই চিঠিটা  লেখার  সুযোগ এলো বলে আবার বসেছি l
                  সত্যিই কী আছিস তুই ?কে জানে ,  হয়তো কোনোদিন দেখা হয়ে যাবে তোর সঙ্গে ,হয়তো টুকরো হাসির মেলবন্ধন চিনিয়ে দেবে একে অন্যকে ,এই জন্মে নাই বা হলো ,পরের কোনো জীবনে ,হয়তো বা ..........
                                                     ইতি  ,
                                                      তোরই ব্ন্ধু ,
                                                                 চৈতালী l