Monday, 25 June 2018

বৃষ্টি বৃষ্টি

বৃষ্টি  মানে ঝাপসা  সবুজ
  ক্যানভাসে  রঙ তুলি ,
ঝিরঝিরিয়ে ভাবনাগুলো
অকারণেই  দোলে।

বৃষ্টি  মানে  রাস্তা  নদী 
অবুঝ  ফুটপাতে ,
ভেজা শালিখ রোদ  কুড়িয়ে
আনমনে  পথ  ভোলে ।

বৃষ্টি  মানে টুকরো স্মৃতি
কল্পনাতে আঁকা,
ব্যথার সুখে কান্না আসে
মন কেমনের ছলে।

বৃষ্টি মানে ঝুঁঝকো আঁধার
সন্ধ্যা বিকেল মাখা,
ঘুমপাড়ানি শব্দ মেশে
বাতাস ধোওয়া জলে।

Wednesday, 20 June 2018

খেলোয়াড়


   
      'কী যে তোরা আজকাল ফুটবল খেলা দেখিস,এতো নিম্নমানের হয় এখন খেলা, কেমন করে লোকে দেখে কে জানে '

          গালে হাত দিয়ে বসেছিলো ওরা, তকাই, মুন্নি, পিকলু, শান্তু আর মিঠি, মন টন বেজায় খারাপ, এত্ত কষ্টে সৃষ্টে বাবার আর মেজকার কাছ থেকে টাকা জোগাড় করে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙানো হয়েছে ছাদে, (বাড়ীর মধ্যে প্রতিবারই দুটো দল হয়ে যায় এই  বিস্বকাপের সময় ) তা দুটো দলের খেলাই এখনো পর্যন্ত পাতে দেওয়ার যোগ্য নয়। মেসি পেনাল্টি মিস করবার পরে পিকলু,তকাই আর শান্তু খুব হেসেছিলো, ব্রাজিলের ড্র দেখে তারা পুরো চুপ করে গেছে। বাড়ীতে শোকের আবহাওয়া বিরাজমান, ছোটদের, মানে একদমই বাচ্চাদের খেলাধূলোর শব্দ পাওয়া যাচ্ছে শুধু। এর মধ্যে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেওয়ার মতো কথাটা বলে ছোটদাদু মিটমিট করে হাসতে শুরু করেছেন।

      শান্তু রেগে গেলে তুতলে যায়, ' বি- ই বি -ই শ্ব কা- আ প- নি -ই ম্ন মা -নের খে -লা আ!!!  তবে উ উ- চ্চ মা -আ- নে এ র খে -এ -লা কো -ও -ন টা শু -উ -নি? '

       এইখানে একটু ছোটদাদুর পরিচয় দেওয়া যাক, ওদের দাদুর ছোটভাই, পঁচাশীর কাছাকাছি বয়স, বিয়ে টিয়ে করেন নি, রিটায়ার করে এখন সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ান। প্রচুর গল্পের স্টক, দেশবিদেশের নানান অভিজ্ঞতা, যখন আসেন সবাইকে মাতিয়ে রাখেন, তকাইরা পছন্দই করে ছোটদাদুকে, কিন্তু আজ একে মুড খারাপ,তার ওপর  বিশ্বকাপকে নিম্নমানের খেলা বললে গায়ে লাগবে না?

     ছোটদাদু ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললেন 'তা রাগ তোদের হতেই পারে, তবে আমার কাছে তোদের এই  মেসি,নেইমার, রোনাল্ডোরা সব একেবারে দুগ্ধপোষ্য  শিশু,একটু চোট লাগলো কি লাগলো না,মাঠের মধ্যে শুয়ে কাতরাতে শুরু করলো,আর আমাদের গ্রামের গোপালদা? তার বেস্ট খেলা দেখেছিলাম, জীবনকে বাজি রেখে, রক্তে সারা গা ভেসে যাচ্ছে, তবু বল নিয়ে সারা মাঠে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, শুনবি নাকি সেই ঘটনার কথা? '

       রান্নাঘর থেকে বেগুনী,আলুর চপ এসে গেল, ছোটদাদু এলে তেলেভাজা খাবারদাবার একটু বেশীই তৈরী হয়, একটা পুরুষ্টু দেখে বেগুনীতে কামড় দিয়ে ছোটদাদু বলতে শুরু করলেন।

     ' আমাদের সময় বুঝলি, বিভিন্ন গ্রামের আলাদা ফুটবল দল ছিলো, বেশ মজার দল,দলে সাতজন করে প্লেয়ার থাকতো, কারোর হাইট চার ফুট দশ ইঞ্চির বেশী হওয়া চলতো না, তাহলেই তুমি টিম থেকে আউট। দলগুলোর নাম ছিলো বেশ মজার, সেভেন বুলেটস, সাত বন্ধু,সেভেন স্টার এইসব, আমাদের পলাশপুর গ্রামের দলের নাম ছিলো সপ্তরথী, জগাদা ছিলো কোচ, আর গ্রামের বিশিষ্ট ভদ্রলোকেরা যেমন হারাধনকাকা, আমার বাবা, নিতাইজেঠু, ভোলাকাকা,আরও কয়েকজন ছিলেন দলটার  পরামর্শদাতা, এঁরা প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন সপ্তরথীকে।প্রতি বছরের আষাঢ়মাসে একটা টুর্নামেন্ট হতো,বিভিন্ন গ্রামের দল অংশ নিতো তাতে, যে দল জিততো, তাদের হাতে তুলে দেওয়া হতো' ত্রিভূবন চৌধুরী শিল্ড '। এই শিল্ড নিয়ে আশেপাশের গ্রামের দলগুলোর মধ্যে দারুণ রেষারেষি চলতো, একবার সেভেন বুলেটস জিতে যায় তো একবার সাতগ্রাম জেতে, তবে গত তিন চার বছর ধরে কিন্তু জিতে আসছে সপ্তরথী, ওই গোপালদার জন্য।

      গোপালদা,পলাশপুর গ্রামে ছিলো ওর মামাবাড়ী,খুব ছোটবেলায় বাবা মারা যাবার পর ওর মা শ্বশুরবাড়ীতে থাকতে না পেরে এখানে চলে আসে।খুব কষ্টের জীবন ছিলো মা আর ছেলের,ওর মা লোকের বাড়ী মুড়ি ভেজে, ধান ভেনে, চিঁড়ে কুটে, আর গোপালদা একটা দোকানে ফাইফরমাশ খেটে পেট চালাতো।বস্তা বস্তা জিনিষপত্র বয়ে আনতো হাটের দিনে গোপালদা, তারপর বাড়ী এসে সংসারের কাজে মা কে সাহায্য করে খেলার মাঠে চলে যেতো। সন্ধ্যেবেলা পড়া বুঝে নিতে  যেতো হারাধনকাকার কাছে। সবাই ভালোবাসতো ওকে, শান্ত ভদ্র ছেলে,চেহারা ছিলো ছোট্টখাট্টো, পেশীবহুল, অনেকটা তোদের ওই মারাদোনার মতো ( এইখানে মিঠি উশখুশ করছে বুঝে পিকলু সবার অলক্ষ্যে চিমটি কেটে চুপ করিয়ে দিলো,গল্পটা ইন্টারেস্টিং হবে মনে হচ্ছে, এখন কেউ বিরক্ত করে?) কয়েকবছর ধরে চার ফুট পাঁচেতেই আটকে আছে, ওর হাইট যাতে আর  না বাড়ে, তার জন্য প্রতিবছর জগাদা মন্দিরে পুজো দিতো, আমরা সবাই প্রসাদ পেতাম,একজন পার্মানেন্ট প্লেয়ার হয়ে গিয়েছিলো সপ্তরথীর, কারণ অন্যরা  হাইট বেড়ে গিয়ে খেলা ছেড়ে দিতো, জাগাদার পরিশ্রম পুরো জলে। তা আমি তখন ক্লাস টু বা থ্রি তে পড়ি, ঠিক মনে নেই, সেইবছর গোপালদাকে নিয়ে খুব গোলমাল শুরু হলো। কী রে, মুখে যে ফেনা উঠে গেলো, আরেক রাউন্ড চা আর তেলেভাজা বলে দে তো। '

         বাড়ীর রান্নাঘরের সুপারভাইজার  রামুদা গজগজ করতে করতে একথালা পেঁয়াজী ভেজে দিয়ে গেছে, ফুঁ দিয়ে একটায় জব্বর কামড় দিয়ে ছোটদাদু আবার শুরু করলেন, ' পলাশপুরের দু তিনটে গ্রাম পরেই ছিলো নিঝুমডাঙা, তাদের দলের নাম ছিলো সেভেন ফ্রেন্ডস, বেশ ভালো শক্তিশালী দল, সপ্তরথীর সংগে সমানে সমানে টক্কর দিতো, তবে গত দু বছর ওরা আমাদের সাথে ফাইনালে  হেরে যায়, এইবার নাকি ওরা আমাদের হারাবেই বলে পণ করেছে। এই নিঝুমডাঙাতেই ছিলো গোপালদার নিজেদের বাড়ী, মানে পৈত্রিক বাড়ী আর কী, সেই গ্রামের বাড়ীর কারো সংগে ওর কোনও যোগাযোগ ছিলো না, ওর কাকা জ্যাঠারা মা আর ছেলেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলো সম্পত্তির ভাগ দেবে না বলে। তা সেই নিঝুমডাঙার জমিদার হঠাত্  খুব বাড়াবাড়ি শুরু করলেন, কী ব্যাপার?  না গোপালদাকে ওঁর গ্রামের টিম মানে সেভেন ফ্রেন্ডস এর হয়ে খেলতে হবে, মামাবাড়ীর টিমে খেলা চলবে না। প্রথমে তিনি লোক পাঠাতে শুরু করলেন, বিভিন্ন প্রলোভন দেখানো শুরু হলো,টাকাপয়সা, নতুন বাড়ী,ভালো চাকরীর সুযোগ, কলকাতার টিমে খেলার বন্দোবস্ত করে দেওয়া আরও কত কী। গোপালদা প্রথমেই বলে দিয়েছিলো সে পলাশপুরের হয়েই খেলবে, এই গ্রাম  তাকে ছোটবেলা থেকে আপদে বিপদে আগলে রেখেছে, বেইমানি সে করতে পারবে না।
   
       আক্রমণের ধরন পালটে গেলো বুঝলি?হুমকি, শাসানি, প্রানহানির ভয় দেখানো,সব শুরু হয়ে গেলো।বিভিন্ন লোক পাঠিয়ে গোপালদাকে দুর্বল করে দেবার চেষ্টা সবসময় প্রতিহত করতো আমাদের গ্রামের লোক, জগাদা তো ওই লোকগুলোকে মারতে তাড়া করেছিলো একবার, কোনওরকমে তারা পালিয়ে বাঁচে। হারাধনকাকা, ভোলাজেঠু  থানায় গিয়ে নিঝুমডাঙার জমিদারের নামে নালিশও করে এলেন, যদিও প্রবল প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করা অত সহজ নয়। গ্রামের বড় ছোট নির্বিশেষে গোপালদার পাশে দাঁড়িয়েছিলো। আমাদের মানে ছোটদের কাজ ছিলো গোপালদার বাড়ীতে কেউ এলেই বড়দের খবর দেওয়া, নাওয়াখাওয়া ভুলে পাহারা দিতাম আমরা। বাবা অনেকবার বলেছিলেন মা কে নিয়ে গোপালদাকে আমাদের বাড়ীতে এসে থাকতে, কিন্তু মৃদু হেসে গোপালদা বলেছে চিন্তা না করতে, ও নাকি সব সামলে নেবে।

        ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট এসে গেলো, জোরদার প্র‍্যাকটিস শুরু হয়ে গেলো। জগাদাকে প্রায়  সারা দিনরাতই  মাঠের চারপাশে দেখা যায়, দিনের অনেকটাই কাটে দলের ছেলেদের নিয়ে ফুটবল পিটিয়ে, বেশীরভাগ সময় অবশ্য গোপালদাকে নিয়েই কাটায় জগাদা। সেও বাধ্য ছাত্রের মতো
জগাদার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।

       লীগের ম্যাচ শেষ হয়ে নক আউট শুরু হলো, সপ্তরথী দুর্ধর্ষ খেলে একটার পর একটা ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠলো। বিপক্ষে কে জানিস?  নিঝুমডাঙার সেভেন ফ্রেন্ডস। আর ফাইনালের ঠিক দু'দিন আগে গোপালদা নিখোঁজ হয়ে গেলো।

         আমাদের গ্রামের লোকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো, থানায় গিয়ে প্রায় হত্যে দিয়ে পড়লেন হারাধনকাকা, সুবলজেঠুরা। পুলিশ এলো, জিজ্ঞাসাবাদ করে রায় দিলো গ্রামের লোকের অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষের চাপ সহ্য করতে না পেরে নাকি গোপালদা পালিয়ে কাশী চলে গেছে। আসলে পুলিশ ওই নিঝুমডাঙার জমিদারের বিরুদ্ধে যেতে সাহস পায় নি।

     হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াতে লাগলো সবাই গোপালদাকে। ওকে ছাড়া টিমকে নামিয়ে কোনও লাভ নেই, লাস্ট অবধি ওয়াক ওভার না দিতে হয়। ওর মা কেঁদে কেঁদে শয্যাগত, সবার মনে একটাই চিন্তা, খেলার যা ইচ্ছে হোক, গোপালদার কোনও ক্ষতি যেন না হয়। দেখতে দেখতে খেলার দিন এসে গেলো, বিকল্প হিসেবে নান্টুকে তৈরি করেছে জগাদা, একদমই সাদামাটা খেলে ছেলেটা , গোপালদার মতো পায়ের কাজ সে কোথায় পাবে?জগাদা বলে গোপালদা যেন গোলের গন্ধ পায়, ঠিক যেখান থেকে বলে পা ঠেকালে গোল হবেই, নিমেষের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যায়। অত ভালো স্ট্রাইকার আজ অবধি চোখে পড়লো না এইদেশে।

       খেলা শুরু হলো, টিমের পতাকা,বেলুন, কাগজের শিকল নিয়ে আমরা মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে আছি, বাঁশী টাশী পকেটে আছে, দরকার পড়লেই বাজাবো। প্রচুর দর্শক খেলা দেখছে, একটু আগে বৃষ্টি হয়ে আকাশ এখন পরিষ্কার, মাঠের একধারে ঝকঝক করছে ত্রিভূবন চৌধুরী শিল্ড, যার জন্য এত মারপিট। পুরষ্কারদাতা হিসাবে মাঠে উপস্থিত সেই বদমাইশ জমিদার, মুখে আর হাসি ধরে না জানে তো আজ নিঝুমডাঙা জিতবেই।

         কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের দল দু দুটো গোল খেয়ে গেলো, আসলে মনোবলটাই ভেঙে গেলে যা হয় আর কী, জগাদা মাঠের ধার থেকে বসে যাওয়া গলায় নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে, যা কেউ শুনতে পাচ্ছে না। এমন সময় হঠাত গোপালদা এসে জগাদার পায়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো।জিজ্ঞাসা করে জানা গেলো জমিদারের লোকেরা ওকে নিয়ে গিয়ে গুম করে রেখেছিলো, দুদিন ধরে কিচ্ছু খেতেও দেয় নি, প্রচন্ড মেরেছে, বিশেষ করে পায়ে বেশী করে মেরেছে, আজ ওদের অন্যমনষ্কতার সুযোগ নিয়ে ও পালিয়ে এসেছে।

       জগাদা, আমি খেলবো, আমার ব্যথা সেরে গেছে, আমি খেলবো জগাদা, কাকুতিমিনতি করতে লাগলো গোপালদা। পারবি তুই?  এই এত মার খাওয়ার পরে? দেখ কিন্তু ভেবে, খেলার কথা ভাবিস না, এই বছরে না হয় সামনের বছর শিল্ড আমরা ঘরে তুলবোই। কে শোনে কার কথা জোর করে মাঠে নামলো সে।

          খেলা এগিয়ে চললো নিজস্ব গতিতে, আমাদের দলের খেলোয়াড়রা গোপালদাকে ওই অবস্থায় খেলতে দেখে পূর্ণ উদ্যমে খেলায় প্রাণ ঢেলে দিলো। গোল শোধ হলো, কিন্তু সময় ফুরিয়ে আসছে, ম্যাচ ড্র হলেই তো টাইব্রেকার এর ঝামেলা , কী হবে কে জানে, এর মধ্যে একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটলো। হঠাত সবাই দেখে গোপালদার বুকের ডানদিকটা রক্তে লাল হয়ে গেলো,খেলার মধ্যেই কেউ ওর বুকে ছুরি মেরেছে।'খুন,খুন চিৎকার করে সবাই মাঠের মধ্যে দৌড়ে গেলো, কে করলো এমন ঘৃণ্য কাজ! মাঠের চারদিকে তখন  হইচই, হট্টগোল।মাঠে পড়ে  গিয়েছিলো গোপালদা, ওকে ধরাধরি করে মাঠের
বাইরে আনা হতেই তড়াক করে উঠে বসে বললো, কিচ্ছু হয়নি আমার, আমি আবার খেলবো।সবাই বাধা দিলো, কোনও লাভ হলো না, দলের পতাকা দিয়ে বুকের রক্তপড়া জায়গা বেঁধে নিয়ে মাঠে নেমে পড়লো গোপালদা। আমার চোখ চলে গিয়েছিলো ওই জমিদারের দিকে, কী মারাত্মক দৃষ্টি দেখেছিলাম তার, এখন ও মনে আছে সেই কথাটা।

        খেলা শেষ হওয়ার ঠিক তিন মিনিট আগে  জয়সূচক গোলটা করলো গোপালদা, তারপর জ্ঞান হারিয়ে মাঠের মধ্যে শুয়ে পড়লো, তাই বলছিলাম, এইসব খেলা আমাকে দেখাতে আসিস না, গোপালদার খালি পায়ের কাজ আমার চোখে লেগে আছে, তোদের বিদেশী দামী দলের বুটপরা খেলা আমার ভালো লাগে না। '

Friday, 8 June 2018

আলোর শিখা, অথবা........

          মাসির বাড়ী গেছি, মাসতুতো দিদির বিয়ে, আমরা কয়েকজন তুতো ভাইবোন ছাড়া গরুর মতো ঘুরে বেড়াচ্ছি। মামাতো, মাসতুতো, এরা তো আছেই, সংগে যোগ হয়েছে দিদির খুড়তুতো জ্যাঠতুতো ভাইবোনেরা। মাঝেমাঝেই পান্তুয়া টান্তুয়া উধাও হয়ে যাচ্ছে, দরকারী জিনিষপত্র যেমন তত্ব সাজানোর রাংতা, অথবা মেসোমশাইর গোঁফ কাটবার কাঁচি হাতের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না, তারপর চিৎকার চ্যাঁচামেচি,  গণহারে বকুনি, বিভিন্ন মনুষ্যেতর প্রাণীর পাঁচ পা দেখার খোঁটা দেওয়া  ইত্যাদি ইত্যাদির পুনরাবৃত্তি হয়ে চলেছে। 

'অ্যাই মিঠু, একটা মজা দেখবি? '

' কী মজা রে দাদাভাই? '

'চুমকি কে ডাক, দারুণ মজা হবে'

'দাঁড়া ডাকছি, বুবুনদাকেও ডাকি?

'হ্যাঁ হ্যাঁ, সবাই মিলেই  চল একটা দারুণ জিনিষ বানাবো, অন্যদের চোখ ট্যারা হয়ে যাবে '

         কিছুক্ষণ আগেই মিঠু গুছিয়ে ঝাড় খেয়েছে মাসির কাছে । আজ দিদির আইবুড়োভাত, বাড়ীর সবাই ব্যস্ত, ও তার মধ্যে এক টিয়াপাখিওয়ালাকে বাজারের রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে এসেছিলো একটু আগে, নাকি কয়েকদিন ধরে মাসির খুব পাখি পোষার ইচ্ছে হয়েছে, পেলেই পুষবে। ওর হাঁকডাঁকে কী না কী হয়েছে ভেবে মাসি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখে খাঁচার মধ্যে একগাদা মুনিয়া ঝটপট করছে, পাঁচটা টিয়া ঘাড় ফুলিয়ে বসে আছে, পাখিওয়ালা ময়লা গামছা ঘুরিয়ে হাওয়া খাচ্ছে, আর সামনে কৃতার্থ করার ভংগীতে মিঠু দাঁড়িয়ে আছে, ব্যাপারটা বুঝে মাসি তো মিঠুকে যাচ্ছেতাই ভাবে বকুনি দিলো, আমরা ওকে বুদ্ধি করে সরিয়ে নিয়ে না এলে হয়তো পিঠেও গোটাকতক পড়তো।তারপর থেকে মিঠু উদাস হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো, ওর মুড ভালো করতেই বাবিয়ার এই যুগান্তকারী প্রয়াস।

         একটা টিনের কৌটো, একটুকরো কার্বাইড, একটু জল, একটা দেশলাই বাক্স, বেশী কিছু তো লাগেও না আমাদের মতো প্রতিভাবান বৈজ্ঞানিকদের কিছু আবিষ্কার করতে।যদিও পুরো আইডিয়াটাই বাবিয়ার, আমরা সহকারী মাত্র। বাজারে যে কার্বাইড ল্যাম্প দেখা যায় ,আমরা আজ আমাদের সীমিত ক্ষমতার মধ্যেই তাই করে দেখাবো, সবসময় ছোট বলে অবজ্ঞা করা? দাঁড়াও , মজা দেখাচ্ছি, আজ যখন সন্ধ্যেবেলা বর আসবে, কত দারুণ জ্বলবে আমাদের এই ল্যাম্প  চাই কি পরে অন্যান্য বিয়েবাড়ী থেকেও ল্যাম্প বানানোর অর্ডার আসতে পারে।

        কৌটো খুলে তারমধ্যে কার্বাইড আর জল দেওয়া হল,চারধারে আমরা মানে আমি, বাবিয়া আর বুবুনদাদা গোল হয়ে বসে, মিঠুটা একটু ছোট তো, ভয়ে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে। কৌটোর মুখ আটকানো হল, টাইট করে, ওপরে ছোট্ট একটা ফুটো আছে, যেই ওখান থেকে গ্যাস বেরোবে, একটা দেশলাই কাঠি জ্বেলে দিলেই ব্যস, আর দেখতে হবে না, 'হঠাৎ ভু  উ উ উ র রু রু রু ই উ ম,'একটা বিশাল শব্দে কৌটোটা ফেটে গেল আমরা তিনজন তিনদিকে ছিটকে পড়লাম,এর মধ্যে কৌটোর  টুকরোতে  বুবুনদার হাত কেটে গিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোতে শুরু করল, মিঠু কাঁদতে কাঁদতে সবাইকে ডেকে নিয়ে এলো।  
              
        সাময়িক বিহ্বলতা কাটিয়ে ওঠার পরে যাকে যা যা শাস্তি দেবার, শুরু হলো,যত বোঝানো  হয়  যে সবে তো আমরা এক্সপেরিমেন্ট করছিলাম, কেমন করে জানবো যে কৌটোতে কতোটা বড় গ্যাস বেরনোর রাস্তা রাখতে হয়, পরের বার নিশ্চয়ই ঠিক করবো, তা কে আর শোনে ছোটদের কথা,ওদের  শুধু পেটাতে পারলেই হলো।

Tuesday, 5 June 2018

পড়ার বই, না পড়ার বই

  ছোট্টবেলা থেকেই বই পড়বার নেশা, যা পেতাম হাতের কাছে, গোগ্রাসে গিলতাম, ক্লাস ওয়ানে সুকুমার রায়, উপেন্দ্রকিশোর, ক্লাস সিক্সে বুদ্ধদেব গুহর 'কোয়েলের কাছে', ক্লাস সেভেন এ 'বঙ্কিম রচনাবলী 'শেষ। আমাদের বাড়ীতে একটা মিনিছাদ ছিলো, ঘরের মধ্যেই, আমার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য 'বড়দের' গল্পের বইদের স্থান হতো ওই মিনিছাদে, কুছ পরোয়া নেই, প্রথমে টেবিল, তার উপরে চেয়ার লাগিয়ে পেড়ে এনে সারাদিন পড়ে নিয়ে আবার ওই পথে তাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দিতাম। লুকিয়ে পড়তে হতো বলে অত তাড়াতাড়ি পড়া রপ্ত হয়ে গিয়েছিলো। বাবা মায়ের প্রবল পিটুনি, কানমলা, চড় ইত্যাদি ও  আমাকে পড়ার বইমুখো করতে পারেনি কোনওদিন। দু'জনে অফিস বেরিয়ে গেলেই অভিযান শুরু হতো আমার, টেবিল, চেয়ার, মিনিছাদ, গল্পের বই আবার গল্পের বই,মিনিছাদ, চেয়ার, টেবিল, মোটামুটি এই ছিলো আমার লাইফ সার্কেল। মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন পঁচিশেক আগে একবার বাবা অফিস যাওয়ার নাম করে লুকিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকে এসেছিলেন, যথারীতি আমি তখন ভুগোলের বই সরিয়ে রেখে আয়েশ করে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নিয়ে বুঁদ হয়ে আছি, কিচ্ছু টের পাই নি, তিনি এলেন এবং মাথার চুল ধরে টেনে বালিশ থেকে তুলে বসিয়ে  দিলেন, একটু হেরে যাওয়া দুখী মুখে বললেন, ' বাবুন, এই ফাঁকিগুলো কিন্ত অনেক বড় হয়ে পরে দেখা দেবে, তখন নিজের হাত কামড়ানো ছাড়া আর উপায় থাকবে না। '
       যাই হোক, বিশুদ্ধ গল্পের বইয়ের মাঝে কিছু সিলেবাসের বইয়ের ভেজাল মিশেছিলো, তাই মাধ্যমিক পরীক্ষা তো পাশ করা গেল, কপাল খারাপ তাই ফার্স্ট ডিভিশন আর অঙ্কে সবেধন নীলমণি লেটারও জুটে গেল, আর ঘাড়ে চেপে বসলো সায়েন্স, হায় রে, এরকম হবে জানলে ইচ্ছে করে ভুল উত্তর লিখে আসতাম। পুরো গভীর সমুদ্রে পড়ে গেলাম, কোথায় মাল্টিনোমিয়াল, কোথায় ক্যালকুলাস, কোথায় মোমেন্ট অফ কাপল, সব একেবারে তালগোল পাকিয়ে গেল।
       উচ্চমাধ্যমিক, সেকেন্ড ডিভিশন, বাবার চলে যাওয়া, তাঁর অফিসে আমার চাকরী, টিবি হওয়ার কারণে বি এস সি কন্টিনিউ না করতে পারা, সব একেবারে হাত ধরাধরি করে চলে এলো। গান ও বন্ধ হলো, ওই টিবির কল্যাণেই। তারপর ছ'মাসের কোর্স করে সুস্থ হতেই প্রেম, এবং বিয়ে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হয়ে রইলো উচ্চমাধ্যমিক।
        কোন ও ক্ষতি ছিলো না জানো, কী সুন্দর অফিস আর বাড়ী যাতায়াত করছি, গল্পের বই নিয়ে যতক্ষণ ইচ্ছা বসে শুয়ে থাকছি, যা ইচ্ছে যেখানে ইচ্ছে বেড়াতে চলে যাচ্ছি, কিন্তু ওই  মনের মধ্যে কুটকুটে একটা বিচ্ছিরি রকমের খারাপ লাগা, কেউ কতদূর পড়াশোনা করেছ জিজ্ঞেস করলে আরও অসহায় লাগতো। বেশী করে আঁকড়ে ধরেছিলাম গল্পের বইগুলোকেই, তিন চারটে লাইব্রেরীর মেম্বার হয়ে গাদাগাদা বই পড়তাম রাত দুটো আড়াইটে পর্যন্ত, এই দেখে আমার কত্তার মাথায় খেলে গেল ঝক্কাস আইডিয়া, জোরজার করে ভর্তি করে দিলো প্রাইভেটে বি এ পড়তে, আর যে মনযোগ দিয়ে গল্পের বই পড়তাম, পুরোটুকু দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম।
          সবসময় মুখের সামনে ইতিহাস, পলিটিকাল দায়েন্স, অফিস থেকে এসেই পড়তে বসতাম।শুধু এইটুকু মাথায় ছিল যে আমাকে পারতেই হবে।কিচ্ছু জানিনা, ওই বিষয়গুলো পড়িইনি কোনওদিন,তখন যেন প্রাণের দায়ে শুধু পড়তাম আর পড়তাম। এইভাবেই একদিন গ্র‍্যাজুয়েট হলাম,তারপর কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে দুটো সাবজেক্টে  এম এ পাশ করলাম। চাকরি, গান,সংসার,সব সামলে পড়াশোনা করেছি, আমার স্বামীর অবদান সবচেয়ে বেশী। প্রতিবার রেজাল্ট বেরনোর সময় বাবার মুখটা ভেসে উঠতো চোখের সামনে, মৃদু হাসি নিয়ে যেন বলছেন, 'বাবুন, তুমি যে পড়ার বইও এত্ত মন দিয়ে  পড়তে পারো, আমার ধারণা ছিল না। '

Thursday, 8 March 2018

নারীদিবস

আজ থেকে বেশ কয়েকবছর আগেকার কথা, তখনো আমার বিয়ে হয় নি,  প্রেমপর্ব চলছে মাত্র। আমাদের বেহালার বাড়ী কিছুদিন আগেই বিক্রী করে দিয়ে আমরা চলে গিয়েছি সল্টলেক। পুরোপুরি অচেনা এক শহর আমার কাছে, বিভিন্ন বাসরুট, খামখেয়ালী নামের স্টপেজ,বিশাল বিশাল জলাধার, নির্জন ভুতুড়ে রাস্তা, (কেউ রাগ করবেন না যেন, অনেকদিন আগে এইরকমই ছিলো সল্টলেক) , সবকিছু কেমন গুলিয়ে যেতো আমার।

          এইরকম এক সন্ধ্যায় আমি বেহালায় বাসের জন্য দাঁড়িয়ে, বাড়ী ফিরবো , সল্টলেক। দেখতে এসেছিলাম আমার হবু বরকে, যিনি কয়েকদিন ধরে তুমুল জ্বরে ভুগছেন। অফিস থেকে তাড়াতাড়ি পালিয়ে, মা কে না জানিয়েই চলে এসেছিলাম এখানে,  ইচ্ছে ছিলো ওই সময়ের মধ্যেই বাড়ী ফিরে যাবো , যাতে বকুনি খেতে না হয়। যাই হোক, দাঁড়িয়ে আছি তো আছিই, একটার পর একটা অন্য সব রুটের বাস তিন চারটে করে চলে গেল, আমার নির্দিষ্ট বাসটির আর পাত্তা নেই। ওই একটাই বাস চিনি, যেটা আমাদের ১৩ নম্বর ট্যাংক বাসস্টপেজ অবধি যায়, ব্রেক করে শিয়ালদা বা এসপ্ল্যানেড থেকে কয়েকটা রুট অবশ্য আছে, কিন্তু কোনদিন একা যাইনি বলেই, সাহস পাচ্ছি না।

         ঘড়ির দিকে তাকাতেও ভয় করছে , নিজেদের বাড়ীতে তখন ল্যান্ডফোনই নেই যে কিছু খবর দেবো, মা কে চিন্তা করতে বারণ করবো,  মোবাইল তো অনেক দূরের ব্যাপার। মরিয়া হয়ে ট্যাক্সি ধরবার চেষ্টায় রাস্তার এপারওপার  কাবাডি প্র‍্যাকটিস করলাম, কিন্তু সল্টলেক শুনে তাঁদের দ্রুত পালিয়ে যাওয়া দেখে আস্তে আস্তে নিজের হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসতে থাকলো। মনশ্চক্ষে দেখতে পেলাম বাড়ীর সামনে ভিড় জমতে শুরু করেছে, পুলিশ এসে মা কে আর বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কী কারণে বাড়ী থেকে একটা মেয়ে পালিয়ে গেল। কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না, এমন সময় এগিয়ে এলেন সেই ট্যাক্সিচালক, যিনি অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন একটু দূরে, ট্যাক্সির গায়ে হেলান দিয়ে লাল কাপড়টা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে হাওয়া খাচ্ছিলেন। তাঁকে সল্টলেক যাওয়ার কথা বলতেই বলেছিলেন সওয়ারি আছেন, মার্কেটিং করছেন, তাই উনি অপেক্ষা করছেন।, নইলে আমায় পৌঁছে দিতেন।
এখন হঠাৎ দেখি এক ভদ্রলোককে নিয়ে তিনি এসে দাঁড়িয়েছেন আমার সামনে, বললেন 'দিদিভাই,  এখন তো আর সল্টলেকের বাস পাবেন না, মনে হচ্ছে ২৩৫ রুটে কোন ও ঝামেলা হয়েছে, তাই বন্ধ হয়ে গেছে, আপনি আমাদের সাথেই চলুন, এই দাদাকে লেক গার্ডেনস এ ছেড়ে দিয়ে তারপর  আপনাকে পৌঁছে দেবো। ' সেই ভদ্রলোকও হাসিমুখে বললেন, 'হ্যাঁ  ম্যাডাম, চলুন, এখানে দাঁড়িয়ে থেকে কী আর করবেন '
          প্রমাদ গুনলাম, ছোটবেলা থেকে শোনা বিভিন্ন সাবধানবাণী মাথার মধ্যে কিলবিল করতে শুরু করলো, মেয়েদের অনেক সাবধানে থাকতে হয়, কাউকে বিশ্বাস করতে নেই, অচেনা কারোর সাথে কথা বলতে নেই, একসাথে যাওয়া তো দূরের কথা, মরিয়া হয়েই ট্যাক্সি থামাতে গিয়েছিলাম, তখনো কোনওদিন একা ট্যাক্সিতে চড়িনি, তারপর আবার একদম অচেনা একজনের সাথে চড়া। মুখ টুখ শুকিয়ে গিয়েছিলো বোধহয়, ট্যাক্সিচালক বললেন ' চলুন দিদিভাই, আপনার কোন ও চিন্তা নেই,  এই ভাইয়া থাকতে আপনার  কোন ও ক্ষতি হবে না '

           লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি উঠে পড়লাম, ওই ভদ্রলোক সামনের সিটে, চালকের পাশে, আর আমি পিছনে,  জানলার একদম ধার ঘেঁষে বসে আছি, কিছু বেগড়বাঁই দেখলেই দরজা খুলে লাফ মারবো, তাতে হাত পা ভাঙুক আর কাটুক, যা ইচ্ছে হোক। দরজাটা লক ও করিনি, এই কারণেই। ওঁদের ভ্রুক্ষেপ নেই,নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব করেই যাচ্ছেন,  মনে হলো দুজনেই বেশ অনেকদিনের পরিচিত, হয়তো নিয়মিত এই ট্যাক্সি ভাড়া করে মালপ্ত্র কেনাকাটা করতে আসেন তিনি। যাই হোক, কিছু পরে লেক গার্ডেনস এ ভদ্রলোক নেমে গেলেন, তারপর বিভিন্ন গলি, বড়রাস্তা, ছোটরাস্তা পেরিয়ে আমায় বাড়ী পৌঁছে দিলেন আমার ভাইয়া।তখন বাড়ীর লোক প্রায় বেরিয়ে পড়ছিলো পুলিশে খবর দিতে, অনেকপ্রস্থ বকুনি টকুনি সামাল দিতে হলো।

            জীবনে আর তাঁদের সাথে দেখা হয় নি আমার, নাম ও জানিনা কারোর, তবু আজ একটাই কারণে এই ঘটনাটা সবাইকে জানাতে খুব ইচ্ছে করলো। পৃথিবীতে নারী পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক, দু' জন বেঁচে থাকে একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে, বিশ্বাসে, ভালোবাসায়। নারীদিবস মানে শুধু  মেয়েদের একটা মিষ্টির প্যাকেট, ফুল আর শাড়ী গয়নার দোকানে ডিসকাউন্ট   দেওয়া নয় , হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস যেন ফিরে আসে আমাদের,  সব্বাইকে অবিশ্বাসী দৃষ্টিতে দেখতে দেখতে আমরা প্রাণভরে বাঁচতে ভুলে যাচ্ছি, এই দিনে তাই ভালবাসাভরা  প্রণাম রাখলাম সেই ভাইয়া আর তাঁর দাদার কাছে, ভালো থাকুন তাঁরা।
                  
                   -------------------------------------