একটি বিশুদ্ধ গুল্প
গত পরশু, যাচ্ছিলাম লন্ডনে। রাণী মাসিমণি ডেকে পাঠিয়েছিলেন পরামর্শ করতে।আরে বাবা হ্যাঁ,এলুমাসির কথাই বলছি।অনেককাল আগে থেকেই আমার পরামর্শ ছাড়া এক পাও চলেন না উনি।ছেলেদের বিয়ে,নাতির গার্লফ্রেন্ড, বৌমাদের গাউনের রঙ,নিজের মুকুটে ক'টা মুক্তো,ক'টা পান্না থাকবে,সব এই শর্মা ঠিক করে দেয়।যাই হোক,যে কথা হচ্ছিল, আমার আবার নিজের ঢাক পেটাতে একটুও ভালো লাগে না।বেশ প্লেনের জানলার ধারে বসে ল্যাপটপে কাজ করছি,সামনের সপ্তাহে ট্রাম্প মেসোমশাই ডেকে পাঠিয়েছেন,মেক্সিকোর দেওয়ালে ক'টা পিলার হবে সেটা হিসেব করে বলে দিতে হবে।এদের জ্বালায় আর পারা যায় না। কয়েকদিন ধরে ফোন করে করে কানের পোকা বার করে দিল। তা সেই ডিজাইন নিয়েই একটু মশগুল হয়ে পড়েছিলাম, হঠাৎ দু'তিনজন এয়ারহোস্টেস এসে মুখ কাঁচুমাচু করে দাঁড়াল।
" ও স্যার,একটু উঠুন না প্লিজ,খুব বিপদে পড়েছি"
" আবার কী হল? না না আমি এখন কোত্থাও যেতে পারছি না,অনেক কাজ।"
" ও স্যার, প্লিজ, একটি বার আসতেই হবে। ক্যাপ্টেন বড্ড কান্নাকাটি করছেন,আপনি ছাড়া কেউ আমাদের বাঁচাতে পারবে না"
যদিও কথাবার্তা নীচু স্বরেই হচ্ছিল,তাও কয়েকজন বিপদের আশংকায় আমার হাত পা ধরে টানাটানি শুরু করে দিল।এর পরেও না উঠলে হয়তো ঘাড়ে করে তুলে ককপিটে নিয়ে যাবে, এই আশংকায় চললাম ওদের সাথে।গিয়ে দেখি সত্যিই মারাত্মক অবস্থা। ক্যাপ্টেন ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদছে,সহকারী দু'জন ছলছল চোখে নানারকম সুইচ খটাখট করছে,কিছুতেই প্লেনের মুখ ঘোরাতে পারছে না।ওদিকে র্যাডারের গন্ডগোলেই হয়তো, আমাদের প্লেন লন্ডন না গিয়ে ঝড়ের গতিতে ছুটে চলেছে মহাকাশের দিকে।পৃথিবীটা দেখাচ্ছে বেশ চার নম্বরী ফুটবলের মতো। পরিস্থিতি দেখেশুনে আমার বেশ মজাই লাগছিল, এই মওকায় যদি চাঁদের মাটিতে এক চক্কর মেরে আসা যায়, তাহলে মন্দ হয় না। কিন্তু তাহলে এলুমাসি আর ট্রাম্প মেসোমশাইয়ের কী হবে?আমায় ছাড়া ওদের যে এক সেকেন্ড ও চলে না।তাই পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য আমি আমার অল পারপাস ব্যাগটা খুলে বার করলাম ছোট্ট স্ক্রু-ড্রাইভার,আর নিজের তৈরী দিকনির্দেশক ম্যাগনেট। তারপর আর কি, এইসব তো আমার বাঁয়ে হাত কা খেল।পৃথিবীর দিকে প্লেনের মুখ ঘুরিয়ে লন্ডনের রাস্তায় এনে দিয়ে নিজের সিটে চলে এলাম।তখন আমার খাতির দেখে কে,সবাই আমায় নিয়ে কি করবে ঠিক করতে পারছে না। শুনলাম নোবেলের জন্যও আমার নাম পাঠিয়ে দেওয়া হবে।ওইসবে আমার কিস্যু আসে যায় না, খ্যাতি চাইলে এতদিনে অনেক বড় কেউকেটা হয়ে যেতাম। সিটে এসে যেই বসেছি,দেখি কয়েকটা অ্যালবেট্রস এসে জানলার ধারে ধারে উড়ছে।আসলে বারবার এই পথে যাতায়াত করায় ওরা আমার বন্ধু হয়ে গেছে।জানলাটা একটু খুলে ওদের একটু আদর করে দিলাম,একজন আবার আমার জন্য প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে এসেছে।নিয়ে পুঁটলিতে রেখে দিয়ে আবার ল্যাপটপ খুলে বসলাম। বড্ড ঝামেলা বাবা।