Sunday, 3 December 2017

'   কয়েকটা প্রশ্ন ছিলো  '

          ও মাস্টারমশাই শুনতে পাচ্ছেন ? ও এস.  এম স্যার ,  হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাকেই বলছি , আপনিই তো সেই ভয়ঙ্কর অংকগুলোর দাঁত নখ মসৃণ করতে শিখিয়েছেন , সলিড জিওমেট্রি , প্যারাবোলার রক্তচক্ষুকে  উপেক্ষা করেছি তো আপনার দেওয়া সাহসেই  l মনে আছে স্যার ? ক্লাস নাইনের হাফ ইয়ারলিতে আমি অংকে একশোয় একচল্লিশ পেয়েছিলাম , করিডরে আপনাকে দেখে লজ্জায় পালিয়ে যাচ্ছিলাম , ডেকে বললেন ' আমি তোমার খাতা দেখেছি , তুমি কিন্ত মাধ্যমিকে অংকে লেটার পাবে , শুধু ফাঁকিটা একটু কম মেরো ' l যাদের মধ্যে কোনও সম্ভাবনা দেখতেন , তাদের বাড়ীতে গিয়ে শিখিয়ে আসতেন অংক , নিজে থেকে , ভালোবেসে , পয়সার বিনিময়ে নয় l আপনিও তো মেয়েদের স্কুলের টিচার ছিলেন , নিরাপত্তার অভাব তো কোনও দিন কেউ বোধ করিনি l

             আপনাকে বলছি আনন্দ স্যার , ওই যে কী বলে না , নন টিচিং স্টাফ ছিলেন আপনি , তবু কী দাপট ছিল আপনার ছাত্রীদের উপরে , কোন মেয়েটি বেশী  স্কুল কামাই করছে , কোন মেয়েটি দারিদ্রের কারণে ফিস দিতে পারছে না , তাদের কীসে ভালো হয় , তার জন্য সচেষ্ট ছিলেন , কেন ছিলেন স্যার ? কারণ আপনি সব্বাইকে নিজের মেয়ের মতো দেখতেন , আমার বাবার মৃত্যুর খবরে আপনার চোখে আমি জল দেখেছি l

          ও  দ্বারিকদা , স্কুলড্রেসের কোনও ত্রুটি হলে ,স্কুলে  পৌঁছতে দেরী হলে গেটের বাইরে দাঁড় করিয়ে দিতে না ? ভাঙা ভাঙা বাংলায় কত্ত বকুনি খেয়েছি তোমার কাছে , আবার তুমিই দেখতে মেয়েগুলো যাতে টিফিনের সময় উল্টোপাল্টা কিছু কিনে না খায় , কোথাও  বেরিয়ে না যায় , তোমার উপর দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতেন বাবা মায়েরা l আর কালীপদদা , তোমাকেও ভুলিনি , ছুটির খবরগুলো তো তুমিই এনে দিতে ক্লাসে ক্লাসে , ল্যাব অ্যাসিস্টেন্টের দায়িত্বও সামলাতে তুমি , সেবারই তো , কেমিস্ট্রি ল্যাবে যখন সোডিয়ামের বোতলটা বার্স্ট করলো , কারোর গায়ে এতটুকু আঁচড় লাগে নি , শুধু তুমি ছিলে বলে l

           আজ এই কথাগুলোই কেমন করে যেন ভেসে ভেসে উঠছে মেঘ ভারাক্রান্ত মনের গায়ে l   আমরা ছোটবেলায় যে নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে বড় হয়ে উঠেছি , এখনকার বাচ্চাগুলো কেন সেইটুকুও পাবে না ? কেন তাদের মনের মধ্যে জন্ম নেবে সন্দেহ ? কেন আজ এই দাবী উঠবে যে মেয়েদের স্কুলে পুরুষ টিচার রাখা যাবে না , কেন এই ঘাসের মাঠে খেলে বেড়ানোর , সবুজ প্রজাপতির পিছনে ছুটে যাওয়ার সুযোগ হারানো বাচ্চাগুলোর কাছ থেকে আমরা অগাধ বিস্বাস আর স্বপ্নভরা ছোট্টবেলাটাও কেড়ে নিতে বাধ্য হবো ? কেন  . . . . . ?

No comments:

Post a Comment