Wednesday, 15 March 2017

গোয়া থেকে ফিরেও

অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল গোয়া বেড়াতে আসার ,ভাস্কো দা গামার স্মৃতি জড়ানো গোয়া ,যা সাড়ে চারশো বছর ধরে ছিল পর্তুগিজ কলোনী l

              প্রায় দুদিন ট্রেনে ঘোরাঘুরি করে পুণে শহরের নাকটুকু ছুঁয়ে সকালবেলা তো এসে পৌঁছনো গেলো  ,সরকারি অতিথিশালায় চাবি নিয়ে ঘর খুলেছি কি খুলিনি ,বলে এক্ষুণি বাস ছাড়বে ,যদি যেতে চাও তো বেরিয়ে পরো ,সাউথ গোয়া , আর কী ,দৌড়ে উঠে পড়লাম বাসে ......

          একটা জিনিস দেখেছি ,সূর্যদেবের অকৃপন কৃপা আমার উপর বর্ষিত হয় ,যে সিটেই বসি ,সারাক্ষণ রোদ্দুরে ভাজা হয়ে যাই ,উঠে অন্যদিকে বসলেও একটু পরেই তিনি উঁকি মারেন l যাহোক ,সে দুঃখের কথা আরেকদিন হবে l

            অনেককিছুই দেখলাম এই কয়েকদিনে , উত্তর দক্ষিণ গোয়ার কত মন্দির ,গির্জা ,অপূর্ব কারুকাজ করা , মন্দিরে কোনো পান্ডার জবরদস্তি নেই ,পুজো দিলে দাও ,না দিলেও কেউ অভিশাপের ভয় দেখাবে না ,আর গির্জার তো কথাই নেই ,শান্ত পরিবেশ দেখে মাঝেমাঝে মনে হয় ধর্মান্তরিত হলে কেমন হয় l

          সমুদ্র এখানে খুব সুন্দর ,নানা বিচের সৌন্দর্য্য নানারকম ,কেউ শান্ত থাকতেই ভালোবাসে ,কেউ বা  আবার বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে লোকজনকে ডাকাডাকি করছে ,পুঁথির মালা ,কাজু ,ছোট বড় স্মারক ,ট্যাটু করাতে চাও ?তাও পাবে l টেম্পোরারি অথবা পার্মানেন্ট ,শুধু নকশা পছন্দ করে বসে পড়া ,ব্যস্ ........

             রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন , কলকাতার মতো লাল রঙের ছাপ ছাপ নয় ,কারণ ওই জিনিসটি এখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ,কেউ লুকিয়ে খেলেও হাজতবাস অনিবার্য ,এমনকি সিগারেট ও ,হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন ,তবে ওটা একটু লুকিয়ে চুরিয়ে চলে l

           ডলফিনের লাফ দেখলাম স্পিডবোটে গিয়ে ,রিভার ক্রুজে মেতে উঠলাম গোয়ানিজ নাচগানের তালে , আর খাবারের কথা না বললেই নয় ,বেশ ভালো চাইনিজ পাওয়া যায় এখানে ,কলকাতার  লোকেদের কোনো অসুবিধা নেই ,তবে আমি তো সর্বভুক , মাটন ,চিকেন ,পর্ক ,হ্যাম ,বিফ ,সি ফুড ,অজানা অচেনা মাছ ,শাকসবজি কিছুতেই আপত্তি নেই ,গোয়ানিজ খাবার চেখে না দেখলে চলে ?আহা ,অপূর্ব !নারকেল দিয়ে কুচো চিংড়ির একটা তরকারি করেছিলো ,স্বাদ অনেকদিন মনে থাকবে l

             অনেক অনেক ভালোলাগা নিয়েই যাচ্ছি ,গোয়া যেমন তারুণ্যের শহর তেমন বৃদ্ধাবাস ও বটে ,সন্তানরা চলে গেছে পর্তুগালে ,হয়তো বেশী সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আশায় ,আগের প্রজন্ম রয়ে গেছে এখানে ,এই দেশকেই চেনে তারা ,রঙিন পানীয় সামনে নিয়ে সস্তা রেস্তোরাঁয় বসে সুর করে গেয়ে ওঠে "ও মাই সুইট হার্ট " হাততালি দিয়ে হেসে ওঠে ,সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে মনখারাপের টুকরো টাকরা ,হয়তো ...........

No comments:

Post a Comment